রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৯:২৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :

চারু মজুমদার লাল সালাম !

জেবুন্নেসা জেবু / ২৫১ বার
আপডেট সময় : বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১

গত শতাব্দীর ছয়ের দশকের শেষ ও সাতের দশকের শুরুতে এক অগ্নিঝরা কৃষক অভ্যুত্থানের প্রবল ঢেউ আছড়ে পড়েছিলো পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের নানা প্রান্তে। ১৯৬৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি মহকুমার নকশালবাড়ি গ্রামে সে সশস্ত্র কৃষক অভ্যুত্থানের সূচনা হয়েছিলো।

চারু মজুমদার, সুশীতল রায় চৌধুরী, কানু সান্যাল ও জঙ্গল সাঁওতাল প্রমুখের নেতৃত্বে গড়ে ওঠেছিলো নকশালবাড়ির কৃষক আন্দোলন। সিপিআই (এম)’র শোধনবাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে তাঁরা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নতুন দল- সিপিআই (এমএল)। দলের প্রধান নেতা চারু মজুমদার।

শ্রেণীশত্রু খতম করে গ্রাম থেকে শহর ঘেরাও করার রণনীতি নির্ধারণ করেছিলেন নকশাল আন্দোলনের নেতারা। আন্দোলন বিস্তৃত হয়েছিলো পশ্চিমবঙ্গের বাইরে ছত্তিসগড়, বিহার, অন্ধ্রপ্রদেশ, উড়িষ্যা, মহারাষ্ট্রসহ বিভিন্ন রাজ্যে।

কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার ছাত্র-তরুণ গ্রামে গিয়ে সশস্ত্র কৃষক আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়েছিলেন। জীবন মৃত্যুকে পায়ের ভৃত্যে পরিণত করেছিলেন। এ আন্দোলনকে উপলক্ষ করে রচিত হয়েছিলো অনেক অসাধারণ সাহিত্যকর্ম।

চারু মজুমদার ও সিপিআই (এমএল)’র অনুসৃত রাজনৈতিক লাইন নিয়ে বিতর্ক ছিলো, আছে। কিন্তু, এ আন্দোলনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য এবং চারু মজুমদারের বিপ্লবী স্পর্ধা, আদর্শনিষ্ঠা ও শোষিত মানুষের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা প্রশ্নাতীত।

নকশাল আন্দোলন দমন করার জন্যে ভারতের শাসকগোষ্ঠী হিংস্র আক্রমণ পরিচালনা করেছিলো। বুর্জোয়া রাষ্ট্রশক্তির সাঁড়াশি অভিযানের মুখে নকশাল আন্দোলন একসময় স্তিমিত ও পরে বহুধা বিভক্ত হয়ে পড়লেও, ভারতীয় রাজনীতিতে নকশাল আন্দোলনের বিভিন্ন ধারা আজও সক্রিয়।

১৯৭২ সা‌লের ১৬ জুলাই কোলকাতার এক শেল্টার থেকে গ্রেফতা‌র হয়েছিলেন চারু মজুমদার। ২৮ জুলাই সরকা‌রি হেফাজ‌তে তাঁর মৃত্যু হয়। অভিযোগ ওঠেছিলো, এটা স্বাভা‌বিক মৃত্যু নয়- পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ভীতসন্ত্রস্ত ভারতীয় শাসকগোষ্ঠী তাঁ‌কে খুন করেছিলো।

মেহনতি মানুষের মুক্তির লড়াইয়ে চারু মজুমদার স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

কম‌রেড চারু মজুমদার

লাল সালাম!


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com