বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :

আজ কুলিয়ারচরের কৃতি সন্তান ‘খান সাহেব’ এর ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী

মুছাম্মৎ রোকেয়া আক্তার রীনা / ১৯২ বার
আপডেট সময় : বুধবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২২

আজ ২৭ এপ্রিল কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচরের কৃতি সন্তান শিক্ষানুরাগী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জননেতা ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মৌলভী এ.এফ.এম নূরুল্লাহ খান এর ৩৮ তম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি ১৯৮৪ সালের এই দিনে ৮৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

সমাজ সেবার স্বীকৃতি স্বরুপ ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক “খান সাহেব” উপাধিতে ভুষিত হওয়া মৌলভী এ,এফ,এম নূরুল্লাহ খান বাংলা ১৩০৭ সালের ৪ ভাদ্র ও ইংরেজী ১৯০০ সালে কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার খড়কমারা গ্রামে সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মৌলভী আব্দুস সবুর।

মৌলভী এ.এফ.এম নূরুল্লাহ খান  স্থানীয় পাঠশালায় তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ঢাকা মাদ্রাসা হইতে জামাতে উলা, ১৯২২ সালে নিউ স্কিম মাদ্রাসা পাঠ্যক্রমানুসারে বিশেষ প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ১৯২৪ সালে ঢাকা ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজ হইতে প্রথম বিভাগে আই এ পাশ করেন। ১৯২৭ সালে ঢাকা ইসলামিক স্টাডিস বিভাগে অনার্সে উচ্চতর দ্বিতীয় শ্রেণি লাভ করেন।

সরকারী চাকুরীর মোহ ত্যাগ করে সমাজ সেবার ব্রত নিয়ে গ্রামেই অবস্থান করেন তিনি। ১৯২৮ সাল হইতে তাঁতারকান্দি এম ই স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। ১৯৩৭ সালে তাঁর একান্ত প্রচেষ্টায় স্কুলটি হাই স্কুলে রুপান্তর হয় এবং ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানের প্রথম প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৬০ সালে তাঁর উদ্যোগেই এটি কুলিয়ারচর হাই স্কুল নামকরন করা হয়। বর্তমানে স্কুলটি কুলিয়ারচর সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে উন্নীত হয়েছে। এই স্কুলে তিনি ১৯৭১ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মরহুম মৌলভী এ.এফ.এম নূরুল্লাহ খান ১৯২৯-১৯৭১ সাল পর্যন্ত টানা ৪২ বছর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় কুলিয়ারচর ইউনিয়ন বোর্ড, কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও চেয়ারম্যান ছিলেন।
১৯৩০ সাল হইতে বিলুপ্তি পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ লোকাল বোর্ডের সদস্য ও ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। ময়মনসিংহ জেলা বোর্ডের সদস্য ছিলেন একটানা ২২ বছর। মনোনীত সদস্য ছিলেন ১৯৩২-১৯৪৫ সাল, নির্বাচিত সদস্য ছিলেন ১৯৪৫-১৯৫৪ সাল পর্যন্ত।

১৯৫১-১৯৬২ সাল পর্যন্ত পদাধিকার বলে কুলিয়ারচরের প্রথম সাবরেজিস্টার ছিলেন তিনি। ১৯৩৭ হইতে বিলুপ্তি পর্যন্ত কুলিয়ারচর ঋণ সালিসী বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বাজিতপুর বিশেষ ঋণ সালিসী বোর্ডের সদস্য ছিলেন।

মৌলভী এ.এফ.এম নূরুল্লাহ খান জামিয়া আরাবিয়া নুরুল উলূম কুলিয়ারচর মাদ্রাসার (১৯৪০) প্রতিষ্ঠাতা ও সেক্রেটারি  এবং কুলিয়ারচর দশ গম্বুজ জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও ১৯৩৭-১৯৫৪ সাল পর্যন্ত ময়মনসিংহ জেলা স্কুল বোর্ডের সদস্য ছিলেন।

তিনি কিশোরগঞ্জ মাল্টি পারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড প্রতিষ্ঠাতা – ডাইরেক্টর , ময়মনসিংহ জেলা মৎসজীবি সমবায় সমিতি লিঃ এর প্রতিষ্ঠাতা – ভাইস চেয়ারম্যান , ময়মনসিংহ ল্যান্ড মর্টগেজ ব্যাংক লিঃ এর ডাইরেক্টর, ইস্ট পাকিস্তান কো-অপারেটিভ ইনস্যুরেন্স কম্পানী লিঃ এর ডাইরেক্টর ছিলেন।  কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল কলেজ এর গভনর্ণিং কমিটি ও পাকিস্তান কেন্দ্রীয় পাট কমিটির সদস্য (১৯৫১-৫৪) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়াও পূর্ব পাকিস্তান ওয়াকর্ফ বোর্ড এর সদস্য (১৯৬২-১৯৬৩), ঢাকা বিভাগীয় কাউন্সিল এর মনোনীত সদস্য (১৯৬১-১৯৬৫), নির্বাচিত সদস্য (১৯৬৫-১৯৭০) এবং পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশিক পরিষদ(১৯৬২-১৯৬৫) সদস্য, অর্থ দপ্তরের পার্লামেন্টারি সেক্রেটারী(১৯৬২-১৯৬৫) ছিলেন তিনি। পাশাপাশি কুলিয়ারচর থানা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

খান সাহেব ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগ মনোনীত আইন সভা সদস্য পদপ্রার্থী, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগ মনোনীত জাতীয় পরিষদ সদস্য পদপ্রার্থী ছিলেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের কল্যাণে ও বিশেষ করে কুলিয়ারচরের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জান মালের নিরাপত্তা বিধানে তাঁর বলিষ্ঠ ভুমিকা ছিল।

১৯৭৯ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত হাওর উন্নয়ন পরামর্শক কমিটির সদস্য, ময়মনসিংহ জেলা আইন শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সদস্য ছিলেন নুরুল্লাহ খান। কুলিয়ারচর পনির কারখানা, বাদাম মিল, যান্ত্রিক চাষাবাদের কার্যালয় স্থাপন (বি,এ,ডি,সি) ও ছয়সূতীতে রেলওয়ে স্টেশন স্থাপনে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।

১৯৪৫ সালে সমাজ সেবার স্বীকৃতি স্বরুপ ব্রিটিশ সরকার তাকে “খান সাহেব” উপাধিতে ভূষিত  করে। তাঁর অবদানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদ ২০০২ সালে দ্বাড়িয়াকান্দি কান্দিগ্রাম থেকে কুলিয়ারচর বেইলি ব্রিজ পর্যন্ত সড়কটিকে “খান সাহেব মৌলভী  এ.এফ.এম নুরুল্লাহ সড়ক” নামকরণ করে। তৎকালীন কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান ও কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী উক্ত রাস্তার নামফলক উন্মোচন করেন।

মরহুমের ৬ষ্ঠ ছেলে কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা  বিএনপি’র সভাপতি, পৌরসভার সাবেক মেয়র নূরুল মিল্লাত তাঁর বাবার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এলাকা ও দেশবাসীর নিকট দোয়া কামনা করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com